ছাত্র পরিষদের নাম করে টাকা তোলার অভিযোগে রণক্ষেত্র হরিশ্চন্দ্রপুর, আহত দুই ছাত্র নেতা

মহম্মদ নাজিম আক্তার- বিতর্ক যেন তৃণমূলের পিছু ছাড়ছে না। সারা রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের বড়ো, মাঝারি থেকে শুরু করে ছোট নেতাদের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসছে বারবার।শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তৃণমূল এ যে একটা বড়ো ভাঙ্গন ধরতে চলেছে তা প্রায় স্পষ্ট। শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের পরেই মালদা জেলা তৃণমূলে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। একের পর এক পঞ্চায়েত সদস্য, ব্লক এবং অঞ্চল নেতারা পদত্যাগ করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল নেতা দ্রোণাচার্য ব্যানার্জি। আর এই আবহেই গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের ছাত্র এবং যুব তৃণমূলের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠে হরিশ্চন্দ্রপুর শহীদ মোড় এলাকা। আহত দুই ছাত্র নেতা।অভিযুক্ত হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লক যুব তৃণমূলের সহ সভাপতির দূর্জয় দাস এবং আরোও কয়েকজন যুব নেতা এবং কর্মী। ছাত্র পরিষদের অনুষ্ঠানের নাম করে বিভিন্ন এলাকা থেকে চাঁদা তোলাকে নিয়ে বিবাদের সৃষ্টি।

সূত্রের খবর, রাহাত আসগর নামে এক যুব তৃণমূল নেতা হরিশ্চন্দ্রপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র পরিষদের অনুষ্ঠানের নাম করে চাঁদা তোলে। যার প্রতিবাদ করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা প্রণব দাস এবং শেখ ছোটন। আর সেখান থেকে গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়, অভিযোগ তারপরেই হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লক যুব তৃণমূলের সহ সভাপতি দুর্জয় দাসের নেতৃত্বে জাবির, সাহিল, রাহাত আসগর সহ আরো কয়েজন যুব তৃণমূলের নেতা কর্মীরা বাঁশ, ইট দিয়ে ওই দুই ছাত্র নেতাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। যার ফলে ওই দুই ছাত্র নেতা আহত হয়।

[আরো পড়ুন- বিজেপির নব্য-পুরাতন বিবাদ প্রকাশ্যে, নব্য বিজেপি নেতাদের দুর্নীতিগ্রস্ত পোস্টার গাইঘাটায়]

সেইসময় গন্ডগোল চলাকালীন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লক তৃনমূল যুব সভাপতি জিয়াউর রহমান পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে এলে দুর্জয় দাসের কাছে হুমকির সম্মুখীন হতে হয় বলে অভিযোগ। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি যুব ব্লক সভাপতি জিয়াউর রহমানকে ফোন মারফত প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে ফের নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তারপর ঘটনাস্থলে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। যদিও এখনো পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন যুব এবং ছাত্র তৃণমূলের কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে অন্যদিকে যুব তৃণমূলের অন্দরের সংঘাতও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আর যা এরকম একটা আবহে যে দলের অস্বস্তি, তা বলা বাহুল্য। এদিকে এলাকায় এখনো যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে।ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসীও। এদিকে যাকে নিয়ে এতো অভিযোগ সেই দুর্জয় দাস সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

জিয়াউর রহমান এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ” গতকাল জানতে পারি এই ঝামেলার কথা পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে যুব তৃণমূলের সহসভাপতি দুর্জয় দাস আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।দলীয় নেতৃত্বকে সমস্ত বিষয় জানানো হবে। ”

আক্রান্ত ছাত্র নেতা শেখ ছোটন বলেন, “আমাদের ছাত্র পরিষদের নাম করে শেখ আসগর টাকা তুলছিল। তার প্রতিবাদ করাতে দুর্জয় দাস ও তার দলবল আমাদের মারধর করে।দল এর সঠিক বিচার করবে আশা রাখি।”

এদিকে দুর্জয় দাস বলেছেন,”মারধর এবং হুমকির সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। অনুষ্ঠান আছে তাই চাঁদা তোলা হচ্ছিল।” পাল্টা তিনি সভাপতি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তুলেছেন। ”

গোষ্ঠীকোন্দল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক তরজা সব মিলে সরগরম হরিশ্চন্দ্রপুরের রাজনীতি।