তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের সাক্ষী থাকলো পূর্ব মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমান

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল এর বাঁকা গ্রাম এ রূপনারায়ণ নদীর চরে একটি ইটভাটা তৈরীকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে আসে তৃণমল এর গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

মোটামুটি পঞ্চাশ বছর ধরে প্রায় তিন একর জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এখন সেটি চর এ পরিণত হয়েছে। সরকারি মত অনুসারে সেটি স্বীকস্তিভূমি। বাঁকা গ্রামবাসীদের মতে ওই জায়গা তাদের। তাই তারা ওই জায়গা ইটভাটা মালিককে দিয়েছেন যাতে তাদের মাসিক রুটিরুজির পথ প্রস্বস্ত হয়। অপরদিকে পাশের গ্রাম গাজীপুরের বাসিন্দাদের অভিযোগ ওই জায়গায় খেলার মাঠ ছিল এবং ওই জায়গা রায়ত। তাই তারা ওই জায়গায় কোনো ভাটা করতে দেবেনা। মহিষাদল তৃণমল কংগ্রেস পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তিলক চক্রবর্তী বলেন যে পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে কোনো রকম অনুমতি দেওয়া হয়নি, যাতে করে তারা ওই জায়গায় ভাটা তৈরী করতে পারে। অপরদিকে নাটশাল ১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অশোক মাইতি বলেন নবান্ন থেকে বলা হয়েছে এই জায়গা অবৈধ। তাই অবৈধ ভাটা বন্ধ হোক।

বেশ কিছুদিন আগেও জমি দখল নিয়ে বেঁধেছিল ঠিক এমনই বিবাদ। মাঝেরচড়ের ইটভাটা-সংলগ্ন একটি সরকারি জমি দখল করতে গিয়েছিল কয়েক শো মানুষ। যা ছিল খাতায়কলমে আবাসন দফতরের। তখন অভিযোগ উঠেছিল সরকারি খালি জমি টাকার বিনিময়ে বেহাত করে দলের নেতারাই। সেখানে অবৈধ ভাবে একের পর এক বাড়ি তৈরি করার জন্য।

অন্যদিকে অন্য আরেকটি ঘটনাকে নিয়ে গোষ্ঠী কোন্দল বাঁধে তৃণমূলের অন্দরমহলে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য তথা প্রাক্তন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা নুরুল হাসান এর বাড়িতে রাতের অন্ধকারে বোমাবাজীর অভিযোগ ওঠে দলের লোকের বিরুদ্ধেই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় বর্ধমানের ভোতার পাড় এলাকায়।

শুক্রবার গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা প্রাণে মারার জন্যই বোমা ছোঁড়ে বলে নুরুল হাসানের অভিযোগ। ইতিপূর্বেও তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিলো বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনাকে ঘিরে আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা। এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি। অভিযোগ জানানো হয়েছে বর্ধমান সদর থানায়। খবর পেয়েই তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সদস্যের বাড়িতে এদিন সকালে হাজির হন বর্ধমান সদর থানার আইসি পিন্টু সাহা সহ অনান্য পুলিশ আধিকারিকরা। বাড়ির চত্ত্বর ঘুরে দেখেন তারা। বোমার আঘাতে জানলার কাঁঁচ সহ একাধিক জায়গার দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নুরুল হাসান জানিয়েছেন, তিনি কাল রাতে অন্য বাড়িতে ছিলেন। পরিবারের সদস্যরাই ফোন করে বোমাবাজীর খবর তাকে জানান। রাত্রিবেলাই তিনি আসেন নিজের বাড়িতে। সঠিক করে কারো নাম জানাতে না পারলেও ডাঙাপাড়ার বাসিন্দা সেখ জামাল নামে এক ব্যক্তির দিকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নুরুল হাসান। তার উপর হামলা হতে পারে এই আশঙ্কায় গতকালকেই বর্ধমান থানায় ডায়রিও করেছেন তিনি বলে জানান । তারপরেই রাত্রিবেলা বোমাবাজী করা হয় বাড়িতে । রাজনৈতিক ভাবে তার সাথে না পেরে নোংরা পথ অবলম্বন করেছে বলে দাবী তৃণমূল নেতার । ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ।

ব্লকের নেতৃত্বের ইন্ধনেই এই কাজ হয়েছে বলে দাবী করেছেন জেলা পরিষদের সদস্য নুরুল হাসান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

কয়েক মাস পরেই বিধানসভা নির্বাচন। তার প্রাক্কালে এই ধরনের ঘটনায় বেশ কিছুটা অস্বস্তিতে পূর্ব বর্ধমানের শাসক শিবির । যদিও যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেতা নুরুল হাসান সেই সেখ জামাল জানিয়েছেন , বাক্ স্বাধীনতা সকলের ই আছে । কেউ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই পারেন । কিন্তু এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই আমার যোগাযোগ নেই । আমি যদি হুমকি দিয়ে থাকি তার তো ফোন রেকডিং থাকবে । তা জানাক প্রশাসনকে । তবে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে জানিয়েছেন সেখ জামাল।