দলবদলের মায়াজালে কৃষক মরে অন্ধকারে…

পাঠকের কলমে: এই অন্ধকার আসলে রাতের থেকেও কালো। অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারের থেকেও কালো। কী বলছি বলুন তো? আসলে বুঝবেন কীভাবে! দেশের মিডিয়া, বিশেষত গণমাধ্যমের থেকেও যা বেশি চর্চিত সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট! সবটাই, বিশেষত, বঙ্গের ক্ষেত্রে সবটাই ঢেকে দলবদল! সবুজ কুমড়ের গেরুয়া হয়ে যাওয়া। কোন দাদা দিদিকে ছাড়লেন। কে আবার কতজনকে নিয়ে গেলেন! কোন নেতা কত পেলেন! কে কী দিয়ে খাবেন! কী করবেন! যোগাযোগের সব মাধ্যমেই এই শাহ, তিওয়ারি, অধিকারী, সুপ্রিয়… বহু নামের ভিড়। সবটাই তীব্র আলোকে জ্বলজ্বল করছে।

তাহলে? একদিকে যখন আলোর তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে কি? অবশ্যই অন্ধকার! ঘুটঘুটে অন্ধকার। এক তীব্র নিকষ অন্ধকার। যেখানে হাতরে দেখলে খুঁজে পাবেন। কী পাবেন বলুন তো? কনকনে ঠাণ্ডায়, ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা পাগড়ি পরা সাদা দাঁড়ি গোঁফের কিছু লোক। ওঁরা সকলেই মাঠের মানুষ কিনা, প্রশ্ন থাকলেও এটা নিশ্চিত তীব্র ঠাণ্ডায় জমে যাওয়া সত্ত্বেও, জল কামানের গোলার কাছে আহত হলেও, সবটাই ফুটেজ বা নাটক করার জন্য নিশ্চিত না! এঁরা প্রত্যেকেই দেশের কঠিন কথা বললেও, একটি আইনের (কৃষি আইন) বিরুদ্ধে সরব হলেও, তাঁদের কথা কেমন যেন অন্ধকারেই। বঙ্গে নাহয় হট টপিক দলবদল। কিন্তু জাতীয় ইস্যু? সেখানেই বাংলাই ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ। যে বাংলা বারবার পথ দেখায়। যে বাংলা বারবার প্রতিবাদের কথা বলে। সেই বাংলাই আজ বিখ্যাত কিছু নীতিহীন, আর রঙ বদলের মোক্ষম নাটক নিয়েই। অনেকেই বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পরেই এই দল ভাঙ্গানোর খেলা শুরু হয়েছিল, যা আজ প্রত্যুত্তর দিচ্ছে। দিক। রাজনৈতিক ভাবে আরও অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা এ দেশে, এ রাজ্যে ঘটতেই থাকে। ঘটবেও। কিন্তু তাই বলে কৃষক আন্দোলনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অচিরেই চলে যাবে খবরের শিরোনাম থেকে শেষ পাতার একটু কোনায়? খলিস্থানি, পাকিস্তান, জঙ্গি, বিরোধীদের হাত… প্রধানমন্ত্রীর কথায় কংগ্রেস ভুল বোঝাচ্ছে কৃষকদের… সব মেনে নিলেও, একটা আন্দোলন যে হচ্ছে। কয়েকহাজার মানুষ দিল্লি সীমানা ছাড়িয়ে আসার চেষ্টা করছেন। দাবি নিয়ে কনকনে ঠাণ্ডায় জমে যাচ্ছেন তাঁরা। বিভিন্ন তকমা নিয়েও আজও অনড়। সীমানা ছাড়ানোর চেষ্টা তাঁদের মধ্যে থাকলেও নামী গণমাধ্যমের সীমা না এর প্রাইম টাইম সেই অধিকারী বা মমতা পর্বই! কীসের আবার আন্দোলন? তিনটি বিল, আইন, কৃষকদের অভিযোগ.. ধুস সেটা আবার ইস্যু নাকি! মানুষ আবার দেখে নাকি ওসব? দেখবে তো হট টপিক!

হ্যাঁ! আপনারাই বাড়াচ্ছেন এই প্রবণতা। দেশের সঠিক ইস্যু ছাড়িয়ে মনোভাব সরিয়ে দিচ্ছেন অন্য দিকে। কারণ, আপনি বদনাম করলেও, সেই দলবদলের পর্ব বারবার দেখবেন কৃষক আন্দোলনের খবরটা না দেখে!

তাই, ২৫ জন কৃষকের মৃত্যু। আন্দোলন চলাকালীন এই মৃত্যুর খবর কংগ্রেসের তরফে এলেও, বিরোধীদের তোপ মোদীর বিরুদ্ধে। মোদীর তোপ বিরোধীদের দিকে। সরকার বলছে ভুল বোঝানো হচ্ছে কৃষকদের। বাকিরা বলছেন, না মিথ্যা বলছে সরকার। সরকার বলছে, আন্দোলনের পিছনে অন্য হাত রয়েছে, বাকিরা বলছেন, ভুল বলছে সরকার! এই অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে রীতিমত অন্ধকার গাঢ় হচ্ছে কৃষকদের মধ্যে। তাঁদের দাবি তো দূর, নানান তকমাও লাগছে বারবার। কিন্তু নজর? সেটা তো সেই কুমড়ো আর কাঁচা থেকে পাকা পেঁপের দিকে!


***এই প্রতিবেদনের সমস্ত বক্তব্য লেখকের নিজস্ব