রামকে অপমান করে তৈরি সিনেমা, ক্ষোভে ফুঁসছে দর্শক।

রামায়ণ-মহাভারতের মতো পৌরাণিক কাহিনী ছোট থেকে বড় পর্দায় উপস্থাপন করা হয়েছে। রামায়ণ এবং মহাভারতের ছোট ছোট ঘটনা নিয়ে সেগুলিকে ব্যাখ্যা সহকারে তুলে ধরা হয়েছে সাধারণ মানুষের সামনে । রামায়ণে রামের জয়, সীতার পাতাল প্রবেশ ,তাদের অজ্ঞাতবাস ,এই ঘটনার বর্ণনা প্রায় বহু জায়গায় পাওয়া গেছে । বহু পরীক্ষা হয়েছে পৌরাণিক এই কাহিনী গুলি ঘিরে , এর আগে বহুবার এরকমই দেখানো হলেও এবারের ঘটনা ব্যতিক্রমী , দেখা যাচ্ছে, রাবণ প্রশ্ন করছেন রামকে যে ” আপনি তো আমার বোনকে হত্যা করেছেন কিন্তু আমি আপনার স্ত্রীর সঙ্গে সেরকম কিছু করিনি। তবে কেন শেষে আমার লঙ্কা ধ্বংস করা হলো? আমিই কেন ঋনাত্মক , ? যেখানে উত্তরে রাম বলছেন কারণ আমি দেবতা” যা মেনে নিতে একেবারেই নারাজ আমজনতা ।

কিন্তু এরকমটাই দেখানো হতে চলেছে হিন্দিভাষী একটি সিনেমা “রাবনলীলাতে” রামায়ণ অনুযায়ী রাবনের সীতা হরণের আগে রাবণের বোন তাড়কা রাক্ষসীকে মৃত্যু প্রদান করেন রাম । তার অনেক আগেই ব্রহ্মার আশীর্বাদে জন্ম নেন তাড়কা রাক্ষসী , বর পান ১০০০ হাতির সমান শক্তির । পরে সুন্দার সাথে বিবাহ হয় তার । অন্যদিকে সুন্দার প্রবল অত্যাচারের অগস্ত্য মুনির অভিশাপে মৃত্যু হয় সুন্দার ‌। স্বামীর বিয়োগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তাড়কা, নিজের সন্তান মারীচের সঙ্গে একত্রিত হয়ে শুরু করেন প্রবল তান্ডব । নিজের ক্ষোভ সামলাতে না পেরে তীব্র গতিতে ছুটে যান অগস্ত্য মুনিকে হত্যা করবার উদ্দেশ্যে । এরপর অগস্ত্য মুনির অভিশাপে তিনি হয়ে ওঠেন রাক্ষসী । তবে এখানেই শান্ত হোন না তিনি ,দেবরাজ ইন্দ্রের সৃষ্ট অরণ্য ধ্বংস করতে শুরু করেন তিনি । ঠিক একই সময় অগস্ত্য মুনি রামকে আদেশ দেন তাড়কা কে হত্যা করার জন্য , রাম প্রশ্ন তোলেন তিনি একজন সৈনিক হয়ে কিভাবে একজন মহিলাকে হত্যা করবেন ? উত্তরে অগস্ত্য মুনি বলেন ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করার জন্য এর আগেও পুরুষের হাতে স্ত্রী হত্যা হয়েছে । যেমনভাবে ভগবান নারায়নের হাতে ভৃগুমুনির স্ত্রী হত্যা হন । একজন রাজার কাছে তার প্রজাদের সুরক্ষায় সবথেকে বেশি প্রাধান্য পায় ,যখনই সেই সুরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাতপ্রাপ্ত হয় রাজার দায়িত্ব হলো সেই সুরক্ষা কে আরও কঠোর করে তোলা । অন্যদিকে সূর্পনখার নাক বলি যায় লক্ষণের হাতে , সীতাকে সূর্পনখার হাত থেকে রক্ষা করতে নাক কেটে দিতে বাধ্য হন লক্ষণ । তবে ছবির ট্রেলার এর শেষের বলা কথাটি একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ মানুষ কারণ হিন্দু ধর্মে অধার্মিক শব্দের কোন স্থান নেই সবাই ঈশ্বরের সন্তান তথা সবাই সমান অর্থাৎ দেবতা বলে তার সমস্ত কাজই পুন্য তা কখনোই হতে পারেনা । অন্য হাতে রাবণ ছিলেন শিব ভক্ত , নিজ হাতে লিখেছিলেন শিব স্ত্রোত মন্ত্র, কিন্তু ক্ষমতা এবং নারীদের প্রতি প্রবল আসক্তির কারণেই ব্রহ্মার কাছ থেকে তিনি এবং তার ভাই কুম্ভকর্ণ অভিশাপ পান তিন জন্মে মানুষ রূপে জন্ম নেওয়ার । দুই জন্মে ভগবান বিষ্ণুর হাতে হত্যা হন তারা এবং শেষ জন্মে ভগবান বিষ্ণুর দুই রক্ষী জয়া এবং বিজয়া রূপে জন্মগ্রহণ করেন রাবণ এবং কুম্ভকর্ণ ।

ছবির ট্রেলার সামনে আসার পরই মানুষের মধ্যে বিতর্কের ঝড় ওঠে । মানুষের প্রশ্ন রাবনকে ধনাত্মক ধর্মী কখনোই দেখানো যায় না , আর এখানে রাবণকে ধনাত্মক ধর্মী দেখাবার জন্য বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে দেবতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে । ছবির প্রথম ঝলকেই যে তীব্র বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছে এই ছবি, তারপর পরিচালক হার্দিক গাজ্জরে'র পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে এখন তাই দেখার বিষয় ।