রাম মন্দির আবেগে ভাসছে দেশ, তবুও ‘ট্র্যাজিক হিরো’ আডবানিরা রইলেন আড়ালেই !

আজ সমগ্র দেশ রাম মন্দির আবেগে ভাসছে। বিজেপির তরফে দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রতিশ্রুতি পূরণ হল আজ। সেই সঙ্গে অনেক গল্প, ইতিহাসের একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল আজ।
কিন্তু রাজনীতির আঙিনায় এবং মানুষের মনে একটা প্রশ্ন প্রায়ই উঁকি দিচ্ছে। রাম মন্দির তৈরির প্রথম এবং অন্যতম কারিগর লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলীমনোহর যোশী, উমা ভারতী আজ কোথায়?


বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। উঠে আসছে নানান কথা। শোনা যাচ্ছে নুন্যতম সৌজন্য আমন্ত্রণ চিঠিও যায়নি তাঁর কাছে। কোনও কোনও গণমাধ্যমে এটাও শোনা যাচ্ছে, কেবল মৌখিক আমন্ত্রণ করা হয়েছিল আদবানিকে। কিন্তু তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি বলেই শোনা যাচ্ছে।


প্রসঙ্গত, আজ রাম মন্দির ভূমি পূজায় নরেন্দ্র মোদি, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু লালকৃষ্ণ আদবানি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। তবে আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে নতুনধারার রাজনীতিতে বা মোদির আমলে ভীষণভাবে যেন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন লালকৃষ্ণ আদবানি। আজকের প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্নটি ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক, আদবানি কি তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু পেয়েছেন? আদবানি যেন ইতিহাসের সেই নেপোলিয়ন যিনি প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করেও সাফল্য অধরাই রয়ে গিয়েছিল।


অথবা ইতিহাসের শাহজাহান? যাঁর স্বপ্ন আজ সফল হল, কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে নেপথ্যে রয়ে গেলেন তিনি। প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী যার উত্থান আছে তার পতনও আছে। কিন্তু রাজনীতির আঙিনা থেকে আদবানির ধীরে ধীরে তাঁর সরে যাওয়া ভীষণই হতাশাব্যঞ্জক। একদা তিনি ছিলেন বিজেপির প্রধান মুখ। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে অটলবিহারী বাজপেয়ির আমলে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম উঠলেও তা মনোনীত হয়নি।


এরপর তাঁর নেতৃত্বে পরপর ২বার লোকসভা ভোটে দলের ভরাডুবির পর একপ্রকার বাধ্য হন তিনি রাজনীতি থেকে অন্তরালে যেতে। তাঁরপর মোদি ক্যারিশমায় আরও ম্লান হয়ে যান আদবানি।
আর তাই আজ রাম মন্দির ভূমিপূজায় বারবার ঘুরে ফিরে আসছে তাঁর প্রসঙ্গ। রামমন্দির তৈরির প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কারিগর আজ যেন রয়ে গেলেন আড়ালেই, ট্র্যাজিক হিরোর মতই। মোদীময়তার অন্তরালেই থেকে গেলেন এইসব কারিগররা!


০৫.০৮.২০২০

কলকাতা

লেখা: অভিলাষ শর্মা

ছবি সৌজন্যে: টুইটার