করোনা আবহে কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষা নয়

করোনা আবহে কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষা নয়: জনমত গঠনে তৈরি হল ফেসবুক গ্রুপ, নিমেষে হল ভাইরাল
করোনা আতঙ্ক দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। পঞ্চম দফার লকডাউন শুরু হতে চলেছে দেশ জুড়ে। স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি বন্ধ। কবে খুলবে সে ব্যাপারে নেই কোনও সঠিক তথ্য। দিল্লী ইউনিভার্সিটি, বেশ কিছু আই. আই. টি সহ বেশ কিছু ইউনিভার্সিটি পরীক্ষা বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরকম কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বাংলার ছাত্রছাত্রীদের কপালে চিন্তার চওড়া ভাঁজ।
কি হবে তামাম বাংলার কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ?
করোনা আবহ এবং পরীক্ষার চিন্তায় ঘুম ছুটেছে পড়ুয়াদের। এমত পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিতে অতি সম্প্রতি ফেসবুকে একটি গ্রুপ তৈরি হয় #এগেনস্টএক্সাম নামে। যা ইতিমধ্যেই প্রায় ভাইরাল।
এ ব্যাপারে খবরওয়ালা টিভির পক্ষ থেকে গ্রুপের একজন এডমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর গলায় একরাশ উদ্বেগ ঝরে পড়ে।
তিনি বলেন ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে সপ্তাহ ২ আগে এই গ্রুপটি তৈরি করা হয়, ইতিমধ্যেই এই গ্রুপের সদস্যসংখ্যা ৫২হাজার ছাড়িয়েছে। সবার বক্তব্য মোটামুটি একই। এই করোনা আবহে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে ইউনিভার্সিটিগুলি যাতে সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করে দেখে।
মূলত কলেজের তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ব্যাপারেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণত জুন জুলাই মাসের মধ্যে ফাইনাল বর্ষের পরীক্ষা হয়ে যায়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে ইউনিভার্সিটিগুলি কি সিদ্ধান্ত নেবে এই নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

তিনি বলেন বেশিরভাগ কলেজ ইউনিভার্সিটিগুলিতে দূর দুরান্ত থেকে পড়ুয়ারা পড়তে আসে। বেশিরভাগ কোনও হোস্টেল বা মেস ভাড়া নিয়ে থেকে পড়াশুনা করে। এই লকডাউনের মধ্যে যে যার বাড়ি চলে গিয়েছে। এমত অবস্থায় যদি পরীক্ষা নেওয়া হয় চরম বিপাকে পড়বে দূর থেকে আসা পড়ুয়ারা। বহু বাড়ির মালিক করোনার ভয়ে ঘর আর ভাড়া দিতে চাইছেনা। কাজেই সমস্যা হবে বিস্তর।
শুধু তাই নয় এত ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দিতে উপস্থিত হলে রয়েছে করোনা সংক্রমণের ভয়ও।
তিনি আরও বলেন ফাইনাল বর্ষের পড়ুয়ারা তাদের পেশাগত জীবনে প্রবেশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেই। পাছে করোনা আবহে তাদের বছর নষ্ট হয় সেই উদ্বেগে ভাঁটা পড়েছে কেরিয়ার তৈরির প্রস্তুতিতেও।
তিনি জানান একে করোনার ভয় তারউপর পরীক্ষার উদ্বেগ এই জোড়া ফলায় মানসিকভাবে খুবই সংকটে রয়েছেন তাঁরা। যখন দেশ ব্যাপী তাবড় তাবড় কলেজ, ইউনিভার্সিটি পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া বা স্থগিত রাখার কথা বলছে তখন পশ্চিমবঙ্গের ইউনিভার্সিটি গুলিও ব্যাপারটি নিয়ে সুস্পষ্ট মতামত জানান এটাই আবেদন তাঁদের।
শুধু ফেসবুকই নয় এই পরীক্ষা মর্মে একটি টুইটার ক্যাম্পেন শুরু করেছেন তাঁরা। #বেঙ্গলএগেনস্টএক্সাম নামে এই ক্যাম্পেনটিতে সাড়াও মিলছে বেশ।
এ ব্যাপারে কল্যাণী ইউনিভার্সিটির পোস্ট গ্রাজুয়েট ফাইনাল সেমিস্টারের একজন ছাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি তাদের তাদের পারিপার্শ্বিক এবং সরকারের নির্দেশিকা মেনেই কাজ করবে। তিনি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উল্লেখ করে বলেন ইউজিসির নির্দেশিকা মেনে ইউনিভার্সিটি একটি উপদেষ্টা মন্ডলী তৈরি করেছে কোভিড ১৯ ম্যানেজমেন্ট এর জন্যে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে এবং বিভিন্ন মারফৎ সূত্রের খবর ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপারে সংবেদনশীলতার সঙ্গে তাঁদের অনুকূলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সব ইউনিভার্সিটিই সরকারি নির্দেশিকা মেনে যথাযথ পরিকাঠামো তৈরি করবে।
তবে তাঁর বিশ্বাস যা হবে ছাত্রছাত্রীদের জীবন, কেরিয়ার এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এবং অবশ্যই তা পড়ুয়াদের অনুকূলেই যাবে। কাজেই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই।
তবে পড়ুয়াদের বক্তব্য তাঁর গলাতেও শোনা গেল যে এই কঠিন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে কোনোমতেই সায় নেই তাঁর।
ছাত্রছাত্রীদের জন্যেই কলেজ, ইউনিভার্সিটি। তাই তাঁদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত সুরক্ষিত হবে এটাই আশা সবার।