“শুভ কর্মপথে ধরো নির্ভয় গান” কবিগুরুর মন্ত্রে বিস্তারবাদকে তীব্র আক্রমণ করে নমো বুঝিয়ে দিলেন ভারতই আগামী দিনের বিশ্বগুরু

রোহি রায়, নিজস্ব প্রতিবেদন: গতকাল চিরাচরিত রীতিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বহু বছর ধরে রাষ্ট্রসঙ্ঘে বিকাশ নয়, শুধু কাশ্মীর নিয়েই পড়ে থাকতে চায় পাকিস্তান। পাল্টা ক্ষুরধার জবাবী ভাষণে পাকিস্তানের সমস্ত মিথ্যা এবং প্রকৃত সন্ত্রাসবাদি চরিত্র বিশ্বের কাছে তুলে ধরেন ভারতের প্রতিনিধি।

আজ আমেরিকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর শেষ হচ্ছে। বিশ্বের সামনে শক্তিশালী ভারতের ছবি পরিস্ফুট করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চে মোদির ভাষণের দিকে তাকিয়েছিল গোটা বিশ্ব। যদিও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের জানা ছিল যে নিজের চিরাচরিত ভঙ্গিমায় কখনোই তিনি পাকিস্তান কিংবা চীনের নাম নেবেন না। কিন্তু দুই দেশকে একযোগে তীব্র কটাক্ষ করে বিশ্বমঞ্চে ভারতের “বসুধৈব কুটুম্বকম্” মন্ত্রের প্রচার করবেন নমো।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আফগানিস্তানের প্রসঙ্গ নিয়ে আসেন। তিনি বলেন যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের উচিত অবিলম্বে আফগানিস্তানের মহিলা, শিশু ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা প্রদান করা। এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন যে বিশেষ কিছু দেশ আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার করে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। অবিলম্বে তাদের প্রতিহত করার ডাক দেন তিনি। যেখানে ভারতের নাম নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ কাশ্মীর নিয়ে কথা বলেছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি নাম না করে বুঝিয়ে দিলেন যে গোটা বিশ্বের সংকটের জন্য দায়ী পাকিস্তান। এখানে বুঝতে হবে পাকিস্তানের নাম নিলে পাকিস্তানের প্রতিনিধি জবাবী ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পেত। তাই সে দেশের নাম না নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের মতকে প্রতিষ্ঠা করলেন নমো।

অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে ক্রমাগত নিজেদের সীমানা ছাড়িয়ে অশান্তি বাঁধানোর চেষ্টাতে নেমেছে চীন। চীনের এই আগ্রাসন নীতি রীতিমতো আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং জাপানের কাছে চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাছাড়া বারবার ভারতের সীমান্তে পাকিস্তানের সাহায্যে অশান্তি পাকানোর চেষ্টায় রয়েছে বেজিং। যদিও তাদের অসৎ উদ্দেশ্য প্রতিহত করতে সফল হয়েছে ভারত। এর আগেও চীনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে ভারত শ্রীকৃষ্ণের মন্ত্রে বিশ্বাসী। তাই ভারত একাধারে যেমন মধুর বাঁশির আওয়াজে প্রেমের বাণীর প্রসার করতে পারে, অন্যদিকে সুদর্শন চক্রের আঘাতে শত্রুর মুন্ডচ্ছেদ করতেও পারে। আজ রাষ্ট্রসংঘে মোদি বলেন যে কিছু বিশেষ দেশ নিজেদের বিস্তারবাদি মানসিকতার মাধ্যমে গোটা বিশ্বে অশান্তি বাঁধানোর চেষ্টা করছে।

চীন ও পাকিস্তানকে একযোগে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে কিছু দেশ সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

সব শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে বিশ্বের প্রতি ছয় ব্যক্তির মধ্যে একজন ভারতীয়। তাই ভারতের বিকাশ না হলে বিশ্বের বিকাশ সম্ভব নয়। এর মারফত মোদি ইঙ্গিত দিলেন যে ভারতের বিকাশ করে আদতে বিশ্বের বিকাশে মনোনিবেশ করেছেন তিনি। অর্থাৎ সমস্ত রাষ্ট্রের উচিত এক যোগে ভারতকে প্রাধান্য দেওয়া যদি তারা বিশ্বে শান্তি চায়। যদিও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সুরক্ষা উপদেষ্টা কমিটিতে ভারতকে স্থায়ী সদস্য না করলে এই বিশ্বের উন্নতি কখনোই সম্ভব নয়। যদিও এরপরে মোদি যোগ করেন যে মহর্ষি চাণক্য বলেছিলেন, “যদি কোন কাজ ঠিক সময়ে না করা হয়, তাহলে সে কাজের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।” তাই সময়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রসংঘ নিজেকে পরিবর্তন না করতে পারলে রাষ্ট্রসঙ্ঘের আসল উদ্দেশ্য কোনদিনও পূরণ হবে না। বোঝাই যাচ্ছে এবার স্থায়ী সদস্যতা পেতে রীতিমতো চাপ দেবে মোদির ভারত।

মহামারী পরিস্থিতিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সফল টিকাকরণের উদাহরণ দিয়ে নমো বুঝিয়ে দিলেন যে ভারতই আগামী দিনের বিশ্বগুরু।

”শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান। সব দুর্বল সংশয় হোক অবসান”

বিশ্বকবি রবীন্দ্ৰনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করে রাষ্ট্রসংঘে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আজ যেন বিশ্ব নেতা।