দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার প্রবেশ, বাড়বে বৃষ্টি, সঙ্গে ভ্রুকূটি ভরা কোটালের।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর ১৫ দিনও হয়নি। দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করল মৌসুমী বায়ু, এ মৌসুমির বর্ষা শুরু হলো আজ। মৌসুমী বায়ু স্থলভাগের প্রবেশ করলে প্রচন্ড বৃষ্টি হয় যেটাকে ‘মৌসুমী বিস্ফোরণ’ বলে, যার প্রভাবে আজ থেকে সোমবার ৫ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর। শুক্রবার উত্তর বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপ। এর জন্য মৎস্যজীবীদের আগামীকালের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকে সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কলকাতা সহ গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে আজ দিনভর বৃষ্টি হবে এবং ধাপে ধাপে বৃষ্টি বাড়তে থাকবে আগামী চার দিন।

সঙ্গে শুক্রবার অমাবস্যা হাওয়ায় ভরা কোটাল এ সমুদ্রের জলস্ফীতি ঘটবে, যার প্রভাবে হুগলি নদী সহ সুন্দরবনের নদীগুলোতে জলস্তর বাড়বে এবং শক্তিশালী বান দেখা যাবে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ এর ফলে হওয়া জলোচ্ছ্বাস এবং ভরা কোটাল এর ফলে সুন্দরবনের অবস্থা এমনিতেই তথৈবচ, ইয়াসের সময় সুন্দরবনের বাসিন্দাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে পারেনি সরকার, তাই এবার আগেভাগেই সতর্ক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক এবং আমলাদের ১১ তারিখে বড় বান আসবে বলে সতর্ক করেছিলেন এবং আগামী ২৬ তারিখের বান আরো শক্তিশালী হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন। আর এসবের ফলে যাতে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তাই জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা ১০ ই জুন এর মধ্যেনিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

তবে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন শহর অঞ্চলের জল জমার যে সমস্যা তার প্রধান কারণ নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং অনিয়ন্ত্রিত খাল-জলাজমি বোজানো, গঙ্গা এবং বিভিন্ন জল নিকাশি খালের সংস্কারের জন্য এবং নিকাশি ব্যবস্থার মানোন্নয়নের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির গঠন করেছেন তিনি।