গণতন্ত্র শেষ, আফগানিস্তানে এখন শুধু শাসকের আইন

আশঙ্কা বহুদিনের। আমেরিকান সৈনিক আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে তালিবানের দখলে চলে গেলে আফগানিস্তান। তালিবানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-আফগানিস্তান যৌথ শক্তির কুড়ি বছরের লড়াই শেষ।

আগস্ট মাসের ৬ তারিখ দক্ষিণ আফগানিস্তানের নিম্রজ শহর দখল করে তালিবানি জঙ্গি গোষ্ঠী। সেই থেকে শুরু হয়েছে দখল করার এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। আগস্ট মাসের ৭ তারিখ জ্বাজযান শহর তাদের হাতে চলে যায়। ৮ তারিখ তারা সার-এ-পুল শহরের দখল নেই। সেই দিন কুন্দুজ এবং তাখর শহরও তাদের হাতে চলে যায়। ৯ তারিখ তালিবানি শক্তি সমঙ্গান শহরের দখল নেয়। ১০ বাঘলান তারিখ শহর এবং ১১ তারিখ বদখশখান শহরের পতন হয়। ১২ তারিখ তারা গজনী এবং ঘোর শহরের দখল পায়। এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় সাফল্য পায় ১৩ তারিখে যেদিন একসাথে বদ্ঘিস, কান্দাহার, হেলমান্দ এবং হেরাট শহরকে দখল করে নেয় তালিবান। ১৪ তারিখ তাদের হাতে আসে ফার্যব, ব্যালখ এবং লোহার শহর। আজ সকালে জালালাবাদ শহরের দখল নিয়ে কাবুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তালিবান। তখনই বোঝা যাচ্ছিল যে কাবুলের আশরাফ ঘানির সরকার পরে যাওয়া এবং তালেবানের হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়ায় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

কাবুল শহরকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে নেওয়ার পর তালিবান ঘোষণা করে যে জনবসতিপূর্ণ কাবুলে রক্ত ক্ষয় করতে চায় না তারা এবং আফগান সরকারের কাছে তারা শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতার অধিকার দাবি করে। আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীকে ভয় না পাওয়ার কথা বললেও তিনি নিজে দেশ ছেড়ে পালিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী আশ্রয় নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে তালিবানি জঙ্গি গোষ্ঠী ঘাঁটি গেড়েছে এবং সেখানে ক্ষমতা হস্তান্তরের সমস্ত রীতি মেনে কাজ চলছে। যদিও তালিবান জানিয়েছে যে তারা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে কারো কোনো ক্ষতি করবে না। ভারতকে অবশ্য তারা বলেছে যে ভারত আফগানিস্তানকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছে এবং তাই যেন ভারতীয় সেনা আফগানিস্তানে আক্রমণ করার ভুল না করে।

আশরাফ ঘানি পালিয়ে যাওয়ার পর আফগানিস্তানের নতুন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন অমরুল্লাহ সালে। এইদিকে আশরাফ ঘানির নিজের ভাই তালিবানে যোগ দিয়ে দেশের মানুষকে তালিবানকে স্বীকার করে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। আবার অন্যদিকে শুরু হয়েছে প্রতিরোধের ঝড়। পঞ্জশিরে তালিবান রুখতে এককাট্টা আহ্মেদ শাহ মাসুদের নর্দান অ্যালায়েন্স। দফায় দফায় সংঘর্ষ। এবার শিশুদের পণবন্দি তালিবানের। কিন্তু পিছু হটতে নারাজ নর্দান অ্যালায়েন্স ইতিমধ্যে ৩০০ জন তালিবানি জঙ্গিকে খতম করেছে। তালিবান মুক্ত হয়েছে তিন জেলা।

ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রীয় দূতাবাস থেকে সমস্ত কর্মচারীদের দেশে ফিরিয়ে আনা শুরু করে নিয়েছে আমেরিকা। ভারত নিজের দূতাবাস থেকে অধিকাংশ কর্মচারীদের ফিরিয়ে এনেছে এবং আজ শেষ বিমানে বাকিদের ফিরিয়ে আনা হবে। যদিও চীন, পাকিস্তান এবং রাশিয়ার দূতাবাসের কর্মচারীরা আফগানিস্তানেই থাকবে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা এই তিন দেশের মদতে এই বিপুল পরিমান ক্ষমতার অধিকারী হয়েছে তালিবান।