বন্যার আশঙ্কা রাজ্য সরকারের! জরুরি বৈঠক নবান্নে।



গত দু-তিন দিনে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রচন্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। জুন মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের 50% গতকাল হয়েছে! ফলে এমনিতেই জলমগ্ন কলকাতা, হাওড়া, হুগলি সহ বিভিন্ন এলাকা। এরই মধ্যে 26 তারিখ রয়েছে ভরা কোটাল।

অন্যদিকে ঝাড়খন্ড, বিহারের প্রচন্ড বৃষ্টি হলে কি হবে সেটাই চিন্তায় ফেলেছে রাজ্যের সেচ দপ্তর কে। এমনিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন তার উপর ডিভিসি জল ছাড়লে বন্যা অবধারিত। তাই জরুরি ভিত্তিতে নবান্নে হাওড়া ও হুগলির বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন রাজ্যের সেচ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, সঙ্গে ছিলেন সেচ সচিব সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। সেচ দফতর সূত্রের খবর, নিম্ন দামোদর অববাহিকায় কেন্দ্রের অর্থের অভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। চেষ্টা করা হচ্ছে বিশ্ব ব্যাঙ্কের টাকায় কাজ করতে। এই সব বিষয় নিয়েই মূলত আলোচনা হয়। সেচ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র জানিয়েছেন, হাওড়া ও হুগলিতে প্রতি বছর বন্যা হয়৷ লোয়ার দামোদর প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এমনকি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্যে টাকা মেলেনি। লোয়ার দামোদর এলাকার বিধায়কদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের কাছে স্থায়ী সমাধানের জন্যে সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে তাই হাওড়া ও হুগলি জেলা প্রশাসনকে ফ্লাড সেন্টার এবং রেসকিউ সেন্টার তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। সঙ্গে সুন্দরবন ও উপকূলবর্তী এলাকার মোট ১৮০ কিমি লম্বা বাঁধগুলো 26 তারিখের মধ্যে ঠিকঠাক অবস্থায় ফেরানোর জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। ১৬৫ কিমি বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে, বাকিটাও খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে খবর। তবে প্রতিবার কোন দুর্যোগের পরেই টনক রাজ্য সরকারের, আগে থেকে উদ্যোগী হয় না সরকার। অভিযোগ উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের। তাদের দাবি আগে থেকে বাঁধ গুলোর মেরামত এবং পাকা বাঁধ না তৈরি করলে প্রতিবছরই তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।