দাবি পূরণ না হওয়া অবধি চলবে লড়াই….

 

তিয়াষা দাস : শনিবার দিল্লি এবং হরিয়ানার মধ্যবর্তী সিঙ্ঘু বর্ডারে জমা হওয়া বেশিরভাগ কৃষকরা বলেন যে যতক্ষণ না নতুন কৃষি আইনের পরিবর্তন আসছে তারা তাদের আন্দোলন থামাবে না। তারা কোনো মতেই বুরারি মাঠে ফিরে যাবে না।

নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ২৭ নভেম্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা (Farmer’s Protest) ‘দিল্লি চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন। এরপরই তোড়জোর শুরু হয় সীমান্ত সিল করার। টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে তৈরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিমেষে গুড়িয়ে দিয়ে হরিয়ানা সীমান্তে প্রবেশ করেছিলেন কৃষকরা।

এই দিন সিঙ্ঘু বর্ডারে দাঁড়িয়ে কর্ণালের কৃষক দিলবাগ সিং বলেন, “আমরা যতদিন না আমাদের দাবি পূরণ করতে পারছি, আমরা এখানেই অনড় থাকবো। এখানে ৬ মাসের রেশন, জল, লেপ, চাদর এনেছি। ওই ট্রাক গুলোর মধ্যেই সব আছে।”

ট্রাকের মধ্যে রয়েছে আটা, ডাল, বস্তা ভর্তি আলু। বাইরে একটা স্টোভের মধ্যে বড় পাত্র রাখা রয়েছে। ট্রাকের বাইরে এবং ভেতরে রয়েছে লেপ, কম্বল-ও। মোবাইল ফোনের জন্য ট্রাকের মধ্যে রয়েছে অনেক গুলো চার্জিং পয়েন্ট এবং ব্যাটারী। এছাড়াও রয়েছে বৃহৎ জলের টাঙ্ক। কৃষক আন্দোলনকারীদের খাওয়া দাওয়ার জন্য দিল্লি শিখ গুরুদ্বার ম্যানেজমেন্ট কমিটি সাহায্যও করছে।

২৪ বছর বয়সী হরবিন্দর সিং বলেন, ” এখানে, সীমান্তটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের বুরারির নিরঙ্কারী মাঠে চলে যেতে বলা হয়েছে। আমরা বুরারির নিরঙ্কারী মাঠে যাব না কারণ সেখানে গিয়ে কিছুই হবে না। আমরা এখানেই আমাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। ”

করোনা পরিস্থিতির সময়ে মাস্ক এবং সামাজিক দূরত্ব ছাড়া এভাবে আন্দোলন করার প্রশ্নের উত্তরে মোগা পাঞ্জাবের ‘ভারতীয় কৃষাণ ক্রান্তিকারী সংঘে’র ৫০ বছর বয়সী, রঘুবীর সিং বলেন, “প্রথমত, আমরা করোনাভাইরাস কে ভয় পাই না। পাঞ্জাবে যখন আমরা একইভাবে আন্দোলন করছিল তখন যখন করোনা হয়নি, তাহলে দিল্লিতেও হবে না।
“দ্বিতীয়ত, আমরা ছোটবেলা থেকে যেভাবে মানুষ হয়েছে, আমাদের এমনিতেই ইমিউনিটি ক্ষমতা বেশি”।
“তৃতীয়ত, আর এই আইন যদি রদ না হয়, আমরা এমনি না খেতে পেয়ে মরে যাব। কারণ সবটাই কর্পোরেট সংস্থার হাতে চলে যাবে।”

দিল্লি সীমান্তে বেশ কয়েকজন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাও উপস্থিত হয়েছেন। তারা একই সঙ্গে গলা মিলিয়ে বিপ্লবের গান গাইছে। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্য থেকে ২৯ বছর বয়সী অর্পন বলেন, “এই আইন প্রত্যক্ষভাবে আমার কৃষক পরিবারকে আক্রান্ত করছে। এমনকি আমার পড়াশোনাকেও”।

২৮ বছর বয়সী পি.এইচ.ডি স্কলার, জসপ্রীর কৌর বলেন, “আমার বাবা-মা এই আন্দোলনে শামিল হতে পারেনি। ওঁদের তরফ থেকে আমি এসেছি। এই আন্দোলনকে আমার পরিবার সম্পূর্ণভাবে সাপোর্ট করে। কারণ আমিও একজন কৃষক পরিবারের মেয়ে”।

একদিকে যেখানে কৃষক আন্দোলন তুঙ্গে, অন্যদিকে দিল্লির জাতীয় সড়ক বন্ধ পরে রয়েছে। কৃষক আন্দোলনের ফলে দিল্লির সড়ক পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের থেকে জানা যাচ্ছে, একটি রাস্তা বন্ধ হবার দরুন অন্য রাস্তাগুলোতে ভিড়  বাড়ছে।

এরই মধ্যে শর্ত সাপেক্ষে অমিত শাহ কৃষকদের সাথে কথা বলার প্রস্তাব দেয়, প্রতিবাদ ধর্নাকে বুরারি মাঠে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু খোলা মনে কথা না বলে শর্তের ভিত্তিতে কথা বলতে রাজি নয় ধর্নায় অংশগ্রহণকারী কৃষকরা।