‘নির্লজ্জ’ ট্রাম্প: গণতন্ত্রের লজ্জা দেখাল বিশ্বের ‘সেরা’ দেশ আমেরিকা

নির্বাচনে হেরেছেন। তবুও মানতে নারাজ তিনি। মহান দেশের মহান রাষ্ট্রনেতার এহেন আচরণে স্তম্ভিত হচ্ছিল বিশ্ব। লজ্জা পাচ্ছিল পৃথিবীর সবথেকে অশিক্ষার অন্ধকারে নিমজ্জিত দেশগুলোও। কিন্তু সবটা তবুও চললেও আমেরিকার সময় অনুযায়ী বুধবার যা ঘটল, বলা ভাল যে কাণ্ড ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান এর সমর্থকরা ঘটালেন, তার উপমা বোধহয় নির্লজ্জতার নিদর্শনের থেকেও নগণ্য। যে দেশ বারবার বড়াই করে বলে তাঁরা এগিয়ে। কে দেশকে তাবড় তাবড় দেশের প্রধানরা একটু ভিন্ন চোখে দেখতে ভালবাসেন, বন্ধুত্ব পাতাতে আগ্রহী হন বারবার। সেই দেশের আইন সভা তথা সেনেটের সামনেই ঘটল তাণ্ডব। শোনা যাচ্ছে, আইন প্রণেতারা নাকি গোপন ঘরে গিয়ে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিলেন গোপন সুরঙ্গের মধ্যে দিয়ে গিয়ে। ভাবী প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কথায়, এই হিংসাত্মক হামলা। যার ভয়ে কুঁকড়ে রইলেন উন্নত দেশের উন্নীত সেনেটররা। হিমশিম খেলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। একের পর এক ছবিতে লুণ্ঠিত গণতন্ত্র। এ কী করলেন ট্রাম্প মহারাজ? আপনি করেননি ঠিকই, কিন্তু আপনার দল? ওই মুখোশ পরা, কালি মেখে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলো? ওরা কারা? কে ওদের এত সাহস ছিল? জানেন আপনি জানেন! কিন্তু বলবেন তো?

যদিও, ট্রাম্পের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট বন্ধ হয়েছে। বিশ্বের সব জায়গা থেকেই আমেরিকান সেনেটে এই তাণ্ডবের ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। নিন্দায় সরব হয়েছেন সদ্য নির্বাচনে জয় পাওয়া ডেমোক্র্যাট দলের নেতারা। সরব কমলা হ্যারিস, বাইডেনরা। তবে এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে একাধিক।

এক, আমেরিকার মত প্রভাব প্রতিপত্তিশালী দেশের আইনসভায় কাজ চলাকালীন এই তাণ্ডব চললেও, ট্রাম্পের মত নেতারা চুপ কেন?

দুই, যে নির্বাচনের ফলাফলের উপরে ট্রাম্প আদালতের দ্বারস্থ হলেও, বিচারকরা তা নাকচ করেছেন, সেই নির্বাচনের ফলাফলের উপরে এখনও ট্রাম্পের টিপ্পনী, সন্দেহ প্রকাশ, সামগ্রিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখোমুখি করছে না?

তিন, নির্বাচনে হার, জিত থাকলেও ট্রাম্পের নাছোড় মনোভাব গণতন্ত্রের থেকে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদাহরণ কিনা প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

শুধু ট্রাম্প নন, তাঁর পরিবার কম যায় কী! আজই তাঁর কন্যা এই হামলার নিন্দা তো দূর, হামলাকারীদের বললেন দেশপ্রেমিক। কিন্তু নিন্দার মুখেই টুইট মুছলেন ফের। সামগ্রিকভাবে, আমেরিকার ইতিহাসে যেমন করোনা মহামারী এক প্রলয় সৃষ্টি করেছে, অনুরূপভাবে এই নির্বাচন যেন আমেরিকার গণতান্ত্রিক ইতিহাসেও এক প্রলয় সৃষ্টি করেছে। একাধারে, নির্বাচন। ফলাফল না মানা। অন্য দিকে, আইন সভার সামনে নিয়ে গণতন্ত্রের মেরুদণ্ডকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলা। যে নির্বাচনের ফলাফলের পর যত প্রশ্ন উঠেছে, আদালতে যাওয়া হয়েছে, প্রায় সব ক্ষেত্রেই যখন সমস্ত প্রশ্নের নিরসন ঘটেছে অনবরত।সেখানে দাঁড়িয়েও বারবার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তার বিরুদ্ধে মতামত পোষণ করা যে নিজের দলের কর্মীদের উত্যক্ত করে তোলা নয়, তাঁদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করা নয়, হামলা তাণ্ডবে উদ্বুদ্ধ করা নয়, এই নিশ্চয়তা কে দেবেন?

সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহ, মার্কিন কংগ্রেসে জো বাইডেনের আনুষ্ঠানিক জয়। আতঙ্কের মধ্যেও প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে এগিয়ে যাওয়া। সামগ্রিকভাবে এই নির্বাচনেও কয়েক কোটি মানুষের আশীর্বাদ (ভোট) পাওয়া ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস করল না, এটাও বা কে বলতে পারেন?

সরাসরি তিনি যুক্ত নন। এই ঘটনা কারা ঘটালেন সেটাও এখনও তদন্তের আওতায়। কিন্তু মে অভিযোগ উঠল। ট্রাম্প তথা তাঁর দলের বিরুদ্ধে যেভাবে সরব হলেন বাইডেনরা। তার বিপক্ষে? ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটলেও নিরব তিনি নিরব! তাহলে কী?


সম্পাদকীয়

ছবি সৌজন্যে: টুইটার

US Capitol

Donald Trump

Joe Biden

America