মোদির কাছে খুদের অভিমানী আবেদন, মানা হলো আবদার

“ভবিষ্যতের সোপান যখন হয়ে ওঠে বোঝা স্বরূপ।” তখন তা কী ভবিষ্যৎ গড়তে পারে? আবারও উঠলো এই প্রশ্ন।

শিক্ষা আমাদের জীবনের মেরুদন্ড। শিক্ষা ব্যতীত কোন ব্যক্তির ভবিষ্যৎ অন্ধকারময়। কিন্তু এই শিক্ষা ই যখন কোন শিশুর বা পড়ুয়ার আত্মউন্মোচনে বাধাস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়, শিক্ষা ব্যবস্থা যখন বিরক্তির উদ্বেগ তৈরি করে তখন তা সমাজের জন্য বিশাল বড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে ধরে।

এ রকমই একটি উদাহরণ পাওয়া গেল সম্প্রতি একজন 6 বছরের কাশ্মিরী মেয়ের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। মেয়েটি ‘মোদি সাহাব’ কে অত্যধিক হোমওয়ার্ক এবং ক্লাসের চাপ নিয়ে অভিযোগ জানায় এবং হোমওয়ার্ক কমানোর আবেদন জানায়। সঙ্গে ছোট্ট মেয়েটি বলে সকাল ১০টা-দুপুর ২টো টানা চার ঘন্টা অনলাইন ক্লাস করা কি সম্ভব?

এই ভিডিওটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট এর সঙ্গে কথা বলেন এবং কিভাবে শিশুদের হোম ওয়ার্ক এর চাপ এবং পড়াশোনার বোঝা হালকা করা যায় সেই নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এই মেয়েটির ভিডিওটি প্রমাণ করছে ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা কিভাবে শিশুদের মনকে বিকশিত করার পরিবর্তে বিরক্তি এবং বোঝা তে পরিপূর্ণ করছে। যার ফলে শিশুদের ইনোভেশন এবং গঠনমূলক ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সমাজে ও মানসিকতায়। করোনা পরিস্থিতির আগে ছাত্র-ছাত্রীদের অত্যধিক (স্বাভাবিকের থেকে 7-8 গুণ) ভারী স্কুল ব্যাগ পড়ুয়াদের অন্যতম বিরক্তি এবং শারীরিক সমস্যার কারণ ছিল। আর এখন ঘন্টার পর ঘন্টা বিরামহীন অনলাইন ক্লাস পড়ুয়াদের বিরক্তি এবং বিবিধ শারীরিক সমস্যা তৈরি করছে।

আমাদেরই উপায় বের করতে হবে কিভাবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমরা রোবট তৈরি করার পরিবর্তে চিন্তাশীল, বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি সেই দিকে নজর দিতে হবে। আশার কথা, শিক্ষা যাতে পড়ুয়াদের আর বোঝা এর মত না লাগে তাঁরা যাতে সেটাকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে এবং সেটা শিক্ষাব্যবস্থা যাতে আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হয় মোদী সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ সারাদেশে লাগু করেছেন জাতির ভবিষ্যৎ সমাজ কেরানি তৈরীর শিক্ষার বদলে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়।