ভবানীপুরে হারের ভয় পেয়েছে ‘হেরো মুখ্যমন্ত্রী’ – বিজেপি কর্মীদের ওপর আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলকে নিশানা করলেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ।

উপনির্বাচনে দিন কয়েক আগে ভবানীপুর জুড়ে ভাঙচুর, মারধর শুরু করেছে তৃণমূল কর্মীরা। এটাকে ভবানীপুরের মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি খবরওয়ালা টিভির প্রতিনিধিকে বলেন,’ আমি যখন প্রথম ঘটনাটির কথা শুনলাম তখন অবাক হয়ে গেছিলাম যে একটা গণতান্ত্রিক দেশে, গণতান্ত্রিক রাজ্যে একটা দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি আক্রান্ত হচ্ছেন! দীলিপবাবুর তো অধিকার রয়েছে ভবানীপুরের যে কোনো জায়গায় প্রচার করার কারণ সেখানে ভোট হচ্ছে। তাই তিনি তো ভবানীপুরের প্রচার করতে যাবেনই, কিন্তু তাঁকে সেখানে বাধা দেওয়া হল। সঙ্গে তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়া হল শারীরিক ভাবে আক্রমণ করার জন্য যাতে তিনি ওখানে প্রচারে না যান। এটি একটি গণতন্ত্রের পরিপন্থী ঘটনা।’

তিনি আরও বলেন,’ “সৌগত রায় আবার বহিরাগত কার্ড খেলার চেষ্টা করছেন, এদের লজ্জা ঘেন্না ভয় তিন থাকতে নেই, সেটা আজ প্রমাণ হয়ে গেল দিলীপ ঘোষ এবং আমাদের যুব সভাপতি মুকুন্দ ঝাঁর উপর আক্রমণে। দিলীপ ঘোষ তো এ রাজ্যের সাংসদ, তাঁরা প্রচারে যাবেন না তো আমাদের দলের প্রার্থীর প্রচারে কারা যাবেন? প্রশান্ত কিশোরকে বিহার থেকে নিয়ে আসা হল, তিনি হয়ে গেলেন ঘরের ছেলে, ববি হাকিম যিনি কিনা বিহারের গয়ার লোক তারা হয়ে গেলেন এই রাজ্যের লোক আর আমাদের রাজ্যের বিভিন্ন অংশের নেতারা হয়ে গেলেন বহিরাগত!”

কেয়া ঘোষ তৃণমূলের উপর এই নিয়ে তোপ দেখে বলেন,’ এই বহিরাগত তত্ত্ব আর খাটবে না। তৃণমূল ভয় পেয়েছে, তারা ভয় পাচ্ছে যে নন্দীগ্রামের আবার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। তাই তারা এসব গন্ডগোল করে মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন যাতে ভোটাররা ভোটের দিন বাড়ি থেকে না বেরোন।

আজকে বিজেপির ৮০ টা কর্মসূচি রয়েছে। মানুষ কি ভয় না পেয়ে রাস্তায় বেরিয়ে মিছিলে হাঁটবেন- এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই, আমরা যদি একটু পুরানো হিসেবে দেখি তাহলে দেখব মমতা ব্যানার্জি নিজের ওয়ার্ডেই হারছেন। তাঁর পাড়াতেও তার থেকে ভোট আমাদের বেশি। এটা তাদের লজ্জা। মানুষ যাতে ভয় না পান, নিশ্চিন্তে ভোট দিতে জান সেই জন্যই তো আমাদের ৮০টি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে বোঝাবেন।’ এবং তিনি খবরওয়ালা টিভির মাধ্যমে ভবানীপুরের মানুষকে আহবান করেন,’ নির্ভয়ে ৩০ তারিখ বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিন, আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকারটা প্রয়োগ করুন। সেটা জরুরি, সবচেয়ে বড় বিষয় আমরা তৃণমূলের মতো গুন্ডামি করিনা।’

জল যন্ত্রণা এবং বিদ্যুৎ পিষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় কেয়া ঘোষ বলেন,’ “জায়গায় জায়গায় ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সহ অনেকে মারা গিয়েছে, মমতা ব্যানার্জি নিজের চেয়ার বাঁচাতে এতটাই ব্যস্ত, তাদের পরিবারের কাছে যাওয়ারও সময় হয়নি। একটা কথাও বলেননি তাদের নিয়ে, উল্টে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলছেন কেন বেরিয়েছিল ওরা! এটা হচ্ছে তৃণমূলের উত্তর! মানুষ এর উত্তর দেবে।”