রাষ্ট্রীয় রত্ন অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাঙালি গবেষক।

কলকাতার ছেলে বর্তমানে বেঙ্গালুরু নিবাসী উজ্জ্বল অধিকারী ন্যাশানাল হিউম্যান ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের তরফ থেকে রাষ্ট্রীয় রত্ন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সবচেয়ে নবীন অ্যারোস্পেস চার্টার্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।

উজ্জল অধিকারীর জন্ম কলকাতায়, পড়েছেন নিমতা হাই স্কুল থেকে। এরপর তিনি বিভিন্ন ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ স্টুডেন্ট ছিলেন অ্যাস্ট্রোনমি এবং অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের। 2014 সালে তিনি অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। 2019 সালে পাশ করেন চার্টার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। তার নাম রয়েছে ইন্ডিয়া বুক অফ অ্যাওয়ার্ডে ভারতের সবচেয়ে নবীন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।

শুধু বিজ্ঞান জগতে নয়, তার পাশাপাশি তিনি সমান সাবলীল লেখনীর জগতেও। তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কবিতা এবং সাইন্স ফিকশন স্টরি লেখেন। এস্ট্রোফিজিক্স কে গল্প বা কবিতায় এনেছেন তিনি! কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে কবিতা লিখেছেন! বিগ ব্যাং থিওরি, থিওরি অফ রিলেটিভিটি এগুলোতে কবিতা লিখেছেন! তিনি পদার্থবিদ্যা এবং সাহিত্যের জগতকে মিশিয়ে দিতে চেয়েছেন, কারণ মানুষের যেরকম দরকার বিজ্ঞান সেই রকম দরকার সাহিত্য ও।



উজ্জ্বল অধিকারী সঙ্গে খবরওয়ালা টিভির প্রতিনিধি যোগাযোগ করলে তিনি আমাদের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে আলাপচারিতা হয়। তিনি কর্মসূত্রে আর কলকাতায় ফিরতে পারবেন না বলে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন এবং বলেন আমাদের সমস্ত কাজই ব্যাঙ্গালোরে। ভারতে অ্যারোস্পেস সম্বন্ধিত যা কাজ হয় সবই ব্যাঙ্গালুরুতে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও কলকাতায় ফেরা হয়তো হবেনা। তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে বলেন জুনিয়ররা যখন ফিল্ডে ঢুকে তখন তাদের কিছুটা হলেও গুরুদায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন না হলে সে সঠিক ভাবে শিখতে পারবে না।

তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তিনি প্রফেসর শঙ্কুর আদলে প্রফেসর উজান বলে একটি রহস্য অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ লিখেছেন। আগামী দূর্গা পূজাতে তিনি অনেক কোভিদ কবিতা নিয়ে প্রকাশিত করছেন একটি কবিতা সংকলন যার নাম প্রথম আলাপ। ওয়েব সিরিজ ই-বুক অডিও বুক এর যুগে মানুষের কাছে বইয়ের কদর কমে যাচ্ছে—এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন সুন্দরভাবে।



তিনি বলেন,’ এখন ধরুন কোথাও বন্ধুবান্ধবরা কথা বলছে বা এক জায়গায় অনেকে কথা বলছে বসে সেখানে আর বই নিয়ে আলোচনা হয় না। সবচেয়ে বড় কথা ম্যাক্সিমাম লোকই লেখা গল্পের বই হোক বা অডিওবুক কিছুতেই ইন্টারেস্ট নেই। এর ফলে মানুষের মধ্যেই ইমাজিনেশন পাওয়ার ও ধীরে কমে যাচ্ছে। ইমাজিনেশন যত কম হবে তত মানুষের মধ্যে বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাপার-স্যাপার কমে যাবে।’