দুর্নীতিগ্রস্থ ফেসবুক কমিউনিটি স্টেনডার্ড? ফের উঠেছে সেই প্রশ্ন

দুর্নীতির সাক্ষী কী এবার ফেসবুক? বদলেছে নেতা ও সাধারণ মানুষের মাঝে নিয়ম? কেন এমন দ্বিচারিতা দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে?

আজকের দিনে সোশ্যাল থাকার জন্যে বেছে নেওয়া হয় সোশ্যাল মিডিয়াকে। সব নিয়মের মাপকাঠিতে মেপে নিজের মতামত জানানোর নামই “সোশ্যাল মিডিয়া”। আর এই সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে সহজ মিডিয়াম ফেসবুক। নিরপেক্ষ এই মিডিয়ার দৌলতে ভালো লাগা, মন্দ লাগা আজ সবই অনায়াসে ভাগ করে নেওয়া যায় নিঃসন্দেহে। কিন্তু আদেও কী সে নিরপেক্ষ! এবার সেই প্রশ্নই উঠেছে তার ব্যবহারকারীদের মাঝে।

বজরং দলের নেতা মাধব সিং সোলাঙ্কি আজ বলেছেন, “বড়দিনে হিন্দুরা চার্চে গেলে, প্রচন্ড মার খাবে”। আর তারপরই তাঁর এই মন্তব্যের জেরে সাধারণ মানুষদের মাঝে উঠেছে একাধিক নিন্দার ঝড়। কেউ বলেছেন “ভারতের মতন সাম্প্রদায়িক দেশে বিজেপির এই একচোখামি কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না”। আবার অনেকে ওনাকেই শাসিয়েছেন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার জন্যে। কিন্তু এই সবেরই সাক্ষী থেকেছে সেই মার্কিন মিডিয়া। সেরকমই আজ এক ব্যাক্তি, বজরং দলের এই মন্তব্য নিয়ে একটি লেখা পোষ্ট করতে যান ফেসবুকে। কিন্তু সেখানে তাঁর বাধা হয়ে দাঁড়ায় ফেসবুকই। তিনি ফেসবুকে বজরং দলের পোষ্টার নিয়ে ক্যাপসানে লেখেন, “ক্যালাতে এলে পাল্টা ক্যাল খাবি। আগেই বলে রাখলাম। এটা ভারত, পাকিস্তান বা তালিবান অধ্যুষিত আফগান নয়”। কিন্তু তাঁর এই পোষ্ট অধরাই থেকে যায় সাধারণ মানুষের কাছে। বরং এমন ধরণের পোষ্টের জেরে তাঁকে তিনদিনের জন্য ব্লক করে দেয় ফেসবুক আধিকারিকরা। কিন্তু কীসের জন্যে এই একচোঁখামি, সেই নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। “একজন নেতা যখন ফেসবুকে এই ধরণের মন্তব্য করেন, সেখানে ফেসবুকের নিয়ম লঙ্খন করা হয় না, কিন্তু এর প্রতিবাদ করলেই কী সমস্ত নিয়মের বাধ ভাঙে?” এই নিয়েই ফেসবুককে কাঠগড়ায় তুলচ্ছে আমজনতা। এখানেই শেষ নয়, এর আগেও যখন এই ব্যাক্তি এমনই প্রতিবাদের সুর তুলেছেন, সেখানেও তাঁকে বারংবার থামিয়ে দিয়েছে এই মার্কিন মিডিয়া “ফেসবুক” এমনটাই অভিযোগ তাঁর। তাঁর কথায় হিংসাত্মক ভাষা আছে, তাই তিনি ফেসবুকে হিংসার মনোভাব সৃষ্টি করছে বলে পাল্টা অভিযোগ আনে ফেসবুক।

তবে শুধুই এই ব্যাক্তি নন, ইতিহাস ঘাঁটলে নজরে আসবে এমন ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন আরো অনেকে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে তেলেঙ্গানার বিজেপি বিধায়ক টি রাজা এক বিতর্কমূলক মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু সেখানে ফেসবুক তাঁর কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফেসবুকে এর বিরুদ্ধাচরণের নিয়ম থাকলেও সেই নিয়মকে অগ্রাহ্য করেছিল তাঁরা। অন্যদিকে ছত্তিশগড়ের এক সাংবাদিক একবার পুলিশের কাছে FIR করেছিলেন আঁখি দাস নামক এক ব্যাক্তির নামে। সাংবাদিক একটি বিজেপি বিরোধী পোষ্ট করেন, সেখানে আঁখি দাস নামক ব্যাক্তিটি বারংবার তাঁকে ফেসবুকেই কটাক্ষ করতে থাকে, এমনকি দরকারে তাঁকে খুনের হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেও কোনো কর্ণপাত করেনি ফেসবুক। নিরপেক্ষ না থেকে, ফেসবুকও কী বিশেষ কোনো রঙে রাঙিয়েছে নিজেকে? এবার এই সন্দেহই বাসা বাঁধছে জনগণের মাঝে।