‘হাতে ছাপওয়ালা কাউকে দেখলেই তাঁদের বাড়ি পাঠান,’ মুম্বই ছাপ-কাণ্ডে জনতাকে অনুরোধ গায়ক সোনু নিগমের।

মুম্বই: দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কমপক্ষে ১২৫ জন। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। যদিও, করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুত কেন্দ্র। রাজ্যগুলোর তরফেও একযোগে কাজ চলছে। তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের হাল ভালো। কিন্তু দেশের সবচয়ে বেশি আক্রান্ত যে রাজ্যে, তা হল মহারাষ্ট্র। দেশের তৃতীয় মৃত্যুর খবরও এসেছে এই রাজ্য থেকেই। এবার ১৪৪ ধারার পর, মুম্বইয়ে করোনা রোধে চালু হল, মানুষের হাতে স্ট্যাম্প বা সিল দেওয়া! হ্যাঁ! করোনা সন্দেহে, ‘কোয়ারেন্টাইনে’ রাখতে প্রয়োজন এমন ব্যক্তির হাতে বসানো হচ্ছে এই ছাপ। যা ভোটের সময়ে ব্যবহৃত কালির ব্যবহারেই করা হচ্ছে। যাতে ওই ব্যক্তি কোনোভাবেই অন্যের সংস্পর্শে এসে নিজের তথ্যগোপন করতে না পারেন।

মুম্বই প্রশাসনের এই নজিরবহীন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বেশিরভাগই। কেউ কেউ সমালোচনা করলেও, ১৪৪ ধারা জারি করে ভাইরাসের প্রকোপ আটকানোর পাশাপাশি, এই সিলের বা ছাপের ব্যবহার করে, সাধারণ মানুষকে, আরেকজন পর্যবেক্ষণে থাকা ব্যক্তি সম্পর্কে সচেতন করার এই উদ্যোগ নজর কেড়েছে বিশ্বের। ইতিমধ্যেই মুম্বই বিমানবন্দরে এই ছাপের ব্যবহার শুরু হয়েছে। কারণ, আগে থেকেই বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের সরকারের কোয়ারেন্টাইনে বা নিজেদের বাড়িতেই প্রয়োজনে এই ব্যবস্থার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই খবর আসে অনেকেই থাকছেন না, অথবা কেই কেউ চম্পটের চেষ্টা করছেন। তাই এবং মহারাষ্ট্রের সরকারের তরফে এই ভূমিকা নজর কেড়েছে তারকা মহলের।

এই প্রসঙ্গে, গায়োক সোনু নিগম ফেসবুক ছবিসহ লেখেন, ভোটের কালী ব্যবহার করে মুম্বই বিমানবন্দরে এই স্ট্যাম্পের কাজ শুরু হয়েছে। যদি কাউকে এই স্ট্যাম্প সহ রাস্তায় দেখেন তাহলে তাকে দোয়া করে বাড়ি ফিরতে বলুন। উল্লেখ্য, ওই স্ট্যাম্পে লেখা, “প্রাউড টু প্রোটেক্ট মুম্বাইকার, হোম কোয়ারেন্টাইন , ৩০ মার্চ ২০২০।” অর্থাৎ “মুম্বই নিবাসিদের বাঁচাতে পেরে গর্বিত।”

সামগ্রিকভাবে দেশের তথা মহারাষ্ট্রের এই পরিস্থিতি চিন্তায় রেখেছে সে রাজ্যের সরকার শুধু নয়, দেশের স্বাস্থ্যমহলকেও। কারণ, মহারাষ্ট্রের মুম্বই, পুনের মতো শহর ঘিঞ্জি জনবসতিপূর্ণ। যেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটার তো দূর, প্রতি মিটারেই বসবাস করেন একাধিক মানুষ। এই ভাইরাসের ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তাই ওই সমস্ত এলাকায় অনেকবেশি। মুম্বইয়ে ইতিমধ্যেই ছড়িয়েছে কোভিড-১৯ নোবেল করোনা ভাইরাস। একাধিক মানুষের দেহে পাওয়া যাচ্ছে এর জীবাণু। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়েও এই উদ্যোগ খানিকটা ‘চিকিৎসা ছুট’ রুখবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

১৭.০৩.২০২০